অপটিক্যাল ফাইবার

Optical Fiber

উচ্চ প্রতিসারক পদার্থ দ্বারা তৈরি নমনীয় বস্তুকে অপটিক্যাল ফাইবার বলে। এটি একসঙ্গে বিভিন্ন ঘনত্বের স্বচ্ছ কাচনির্মিত সরু নমনীয় তারবিশেষ। বর্তমানে বিশেষ ধরনের প্লাষ্টিক দ্বারাও অপটিক্যাল ফাইবার তৈরি করা হয়ে থাকে। আলো বহনের কাজে এটি ব্যবহার করা হয়। আলোর পূর্ণ আভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্মকে কাজে লাগিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার তৈরি করা হয়। যখন আলোকরশ্মি কাচ তন্তুও এক প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ কওে তখন তন্তুর দেয়াল বরাবর এর পূর্ণ আভ্যান্তরীণ প্রতিফলন ঘটে, যতক্ষণ না অপর প্রান্ত দিয়ে নির্গত হয়। এভাবে আলোকরশ্মি দ-ের সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য অতিক্রম করে। তরঙ্গকে দ্রুত ও বিকৃতি ছাড়া প্রেরণের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। অত্যন্ত দ্রুত আলোর গতিতে চলে বলে ডাটা স্থানান্তরের জন্য বর্তমানে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিতে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার করা হয়। টেলিফোন, টেলিপ্রিন্টার, টেলিভিশন প্রভৃতিতে আলোক সিগন্যালকে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে পেরণ করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এনডোসকপি মেশিনে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থায় অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এটি কোর, ক্ল্যাডিং ও জ্যাকেট দিয়ে গঠিত।

ফাইবারের গাঠনিক উপাদানের প্রতিসরাঙ্কের উপর ভিত্তি করে অপটিক্যাল ফাইবারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়-
১)    স্টেপ ইনডেক্স ফাইবার
২)    গ্রেডেড ইনডেক্স ফাইবার
৩)    মনোমোড ফাইবার

ফাইবারের গঠন উপাদান:
ফাইবার তৈরিতে অন্তরক পদার্থ হিসেবে সিলিকা এবং মাল্টি কমপোনেন্ট কাচ বেশি ব্যবহৃত হয়। ফাইবারের ক্লাডিং হিসেবে প্লাষ্টিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অতিরিক্ত ক্ষয় হচ্ছে প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা। সাধারণ কাচ ফাইবার তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ সাধারণ কাচের মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি কিছুদুর যেতে না যেতেই নিঃশেষ হয়ে যায়। তাছাড়া সাধারণ কাচ আপাতভাবে স্বচ্ছ মনে হলেও অপটিক্যাল কমিউনিশনের জন্য যতটা স্বচ্ছতা প্রয়োজন ততটা নয়।

ফাইবারের গঠন উপাদানের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট :
১)    অতি স্বচ্ছতা
২)    রাসায়নিক সুস্থিরতা বা নির্ণিয়তা
৩)    সহজ প্রক্রিয়াকরণ যোগ্যতা
অপটিক্যাল ফাইবারের সুবিধা :
১)    উচ্চ ব্যান্ডউইথ(প্রতি সেকেন্ড যে হারে তথ্য প্রবাহিত হয় তাকে ব্যান্ডউইথ বলে)।
২)    সূক্ষতা এবং উচ্চ গতি
৩)    নেট লস কম
৪)    বিদ্যুৎ চুম্বক প্রভাব হতে মুক্ত
৫)    ডেটা সংরক্ষণে নিরাপত্তা সুবিধা